রাণীনগরে কৃষকের ঘুরে দাঁড়ানোর হাতিয়ার হতে পারে পান চাষ

রাণীনগরের খবর সর্বশেষ সারাদেশ

মোঃ সাহাজুল ইসলাম,রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় এই প্রথম পরীক্ষামুলক পান চাষ শুরু করেছেন শহিদুল আকন্দ নামে এক কৃষক। ধান চাষের রাজ্যে ইতি মধ্যেই পান চাষে সফলতায় আশার আলো দেখেছেন তিনি। শহিদুল আকন্দ বলছেন,অল্প খরচ ও পরিশ্রমে দীর্ঘ মেয়াদী লাভের এই ফসল ব্যাপক আগ্রহী করে তুলেছে। তার দাবি পান চাষ ছড়িয়ে পরলে অর্থনীতিতে যোগ হতে পারে সম্ভবনার নতুন মাত্রা। 

উপজেলার টুং আকন্দপাড়া গ্রামের মৃত সাজেদ আকন্দের ছেলে শহিদুল আকন্দ জানান,তিনি ধান,আলু,সরিষা চাষ করতেন। এইসব আবাদে কখনো সামান্য লাভ আবার কখনো অনেক বেশি পরিমানে লোকসান হয়। আর এই লাভ-লোকসান নির্ভর করে ফসলের ফলন এবং বাজার দরের উপর। শহিদুল জানান,প্রায় ১০বছর আগে তার ছেলেকে রাজশাহীর বানেশ্বর এলাকায় বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের পর থেকে তার বিয়াই মহসিন আলী বেড়াতে এলেই বার বার পানের বরজ করার জন্য উৎসাহ দিতেন। কিন্তু অভিজ্ঞতা এবং অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে বার বার পিছুপা হতেন তিনি। বিয়াই মহসিন তার এলাকায় প্রায় তিন বিঘা জমিতে পানের বরজ করেছেন। বেড়াতে গেলেই সেই বরজগুলো ঘুরে দেখাতেন এবং বরজ তৈরি করার কথা বলতেন। অবশেষে গত বছরের ফাল্গুন মাসে নিজের তিন শতক জমির সাথে আরো চার শতক জমি ১০বছরের জন্য লিজ নিয়ে মোট সাত শতক জমিতে বরজ গড়ে তোলেন। বিয়াই মহসিন বানেশ্বর এলাকা থেকে ১০জন শ্রমীক নিয়ে এসে পানের বরজ তৈরিসহ গাছ রোপন করে দিয়েছেন। এতে প্রায় এক লাখ ২৫হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যত্ন আর পরিচর্জায় গড়ে তোলা বরজ থেকে পান বিক্রি শুরু করেছেন। প্রতি ১৫দিন পর পর বরজ থেকে পান তুলে মাসে প্রায় ৩২-৩৫হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। মাত্র সাত শতক জায়গা থেকে গত তিন মাসে প্রায় এক লাখ টাকার পান বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, আর এক মাস পর থেকে খরচের টাকা ওঠে আসবে। এর পর থেকে যে পান বিক্রি হবে খরচ বাদে মাসে প্রায় ২০/২৫হাজার টাকা লাভ থাকবে। তিনি বলেন,পরিত্যাক্ত এবং সামান্য ছায়াযুক্ত জায়গায় পান চাষ করা যায়। এটি একবার রোপন করলে অন্তত ২০/২৫বছর ফলন পাওয়া যায়। আগামী বছর আরো ১৬শতক জমিতে মাটি ভরাট করে পানের বরজ করবেন বলে জানান তিনি। কৃষক শহিদুলের মতে,এই এলাকায় ব্যাপক পরিমানে ভিটে-মাটি রয়েছে। এসব ভিটে-মাটিতে পান চাষ করলে অন্য ফসলের চাইতে বিপুল পরিমানে লাভ বেশি হবে। তিনি পান চাষে সঠিক পরামর্শসহ বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানান।

শহিদুল ইসলাম জানান,তার বিয়াইয়ের সঠিক পরামর্শেই এখন পর্যন্ত বরজের পরিচর্জা করে আসছেন। কিন্তু  এক বছর ধরে পান চাষ করলেও কৃষি অফিস থেকে কেউ কখনো খোঁজ নিতে আসেনি। গত ৩/৪দিন আগে কৃষি কর্মকর্তা এসেছিলেন। তবে পান চাষ সম্পর্কে ধারনা না থাকায় কোন পরামর্শ দিতে পারেননি। তবে পান চাষের এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের নিকট থেকে জেনে সঠিক পরামর্শ দেয়া হবে জানিয়ে চলে গেছেন। 

রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান,জানতে পেরে কৃষি কর্মকর্তাসহ পান চাষের বরজ দেখতে গিয়েছিলাম। পান চাষ এলাকায় ছড়িয়ে পরলে অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন,পান চাষে আগ্রহি কৃষকদের প্রশিক্ষন এবং উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *