
মোঃ সাহাজুল ইসলাম,রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহতিকরণ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন রাণীনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, সোমবার থেকে রাণীনগর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ জরিপ ২০২৬-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাণীনগর, একডালা ও মিরাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ জরিপ পরিচালিত হবে। এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য গত ১০ ও ১১ অক্টোবর ৩ জন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারীকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে ১ জন সুপারভাইজার ও ৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যারা এ কার্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজস্ব বক্তব্য বা নিজের পরিবারকে দরিদ্র কিংবা সচ্ছল হিসেবে বর্ণনা করার ওপর নির্ভর করা হবে না। বরং বৈজ্ঞানিক পিএমটি পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন করে যোগ্যতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এ পদ্ধতিতে পরিবারের জীবনযাত্রা, আর্থসামাজিক অবস্থা এবং প্রাসঙ্গিক সূচকভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। অর্থাৎ কোনো পরিবার নিজেকে দরিদ্র দাবি করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হবে না; আবার নিজের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো পরিবারের বক্তব্যের পরিবর্তে নির্ধারিত সূচক ও মূল্যায়নপদ্ধতি অনুসরণ করেই যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এর ফলে উপকারভোগী নির্বাচনে ব্যক্তিগত ধারণা, স্বেচ্ছায় দেওয়া শ্রেণিবিভাগ কিংবা মৌখিক দাবির পরিবর্তে তথ্য ও নির্ধারিত মূল্যায়নপদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করি- এ ধরনের পদ্ধতি উপকারভোগী নির্বাচনকে আরও বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর করতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তথ্য সংগ্রহকারীরা জিপিএস সক্ষম ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও দাখিল করবেন। এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা তথ্য দাখিল করার পর সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজাররা সংগৃহীত তথ্যের নির্ভুলতা, সামঞ্জস্য এবং স্বচ্ছতা যাচাই করবেন। এরপর দাখিল করা তথ্য উপজেলা কমিটি ও জেলা কমিটির মাধ্যমে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করা হবে। অর্থাৎ তথ্য সংগ্রহের পর পরই প্রক্রিয়াটি শেষ হয়ে যাবে না; বরং তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে একাধিক পর্যায়ে যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, তথ্যের যথার্থতা পুরো কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই তথ্য সংগ্রহকারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রকৃত তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে যথাযথভাবে যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি রাণীনগর উপজেলার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর জনগণের প্রতি আহŸান জানান, তথ্য সংগ্রহকারীদের সহযোগিতা করুন এবং পরিবারের প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান করুন। তথ্য সংগ্রহকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিন। কোনো তথ্য গোপন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
তিনি বলেন, এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বা তথ্য প্রদানের জন্য কোনো অর্থ প্রদান করতে হবে না। ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে তার কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি আশা করেন- সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ, তথ্য সংগ্রহকারী দল, সুপারভাইজার, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত সহযোগিতায় রাণীনগর উপজেলায় পরীক্ষামূলক জরিপ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটন, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহŸায়ক মোজাক্কির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহŸায়ক মতিউর রহমান উজ্জলসহ তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।
